আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
সাবেক রাষ্ট্রদূত | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
গত কয়েক বছরে বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ স্পষ্টতর হয়েছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এখন পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায়ও প্রভাব বাড়াতে আগ্রহী। অন্যদিকে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অস্ট্রেলিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা দিন দিন বাড়ছে।
"ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার। অস্ট্রেলিয়ার সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার হলে দুই দেশই লাভবান হবে।"
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১ লক্ষ বাংলাদেশি বসবাস করেন। তারা দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নেও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই যাত্রায় অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ, এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া ভিসা জটিলতা ও বৈষম্যের অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়। এসব সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়লে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে।